বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
জুলাই স্মরণে জামায়াতের ৩৬ দিনের কর্মসূচি অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা নিষেধ, গণমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে : তথ্য উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

প্রেক্ষাগৃহে টুটুলের শেষ ছবি

২০১৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সাইদুল আনাম টুটুল নির্মাণ শুরু করেন তার স্বপ্নের চলচ্চিত্র ‘কালবেলা’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘কালবেলা’র কাজ তখন প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু ছবিটি অসমাপ্ত রেখেই বিদায় নিতে হয় তাকে। একই বছর ১৮ ডিসেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন এই নির্মাতা। তার মৃত্যুর পর ছবিটি ঘিরে শুরু হয় অনিশ্চয়তা। শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে কাজ শেষ করা হয় ছবিটির। আজ প্রেক্ষাগৃহে এটি মুক্তি পেয়েছে।

সাইদুল আনাম টুটুলের মৃত্যুর পর ২০১৯-এ চলচ্চিত্রটির প্রযোজক ও তার সহধর্মিণী অধ্যাপক মোবাশ্বেরা খানমের নেতৃত্বে শুরু হয় ‘কালবেলা’র অসমাপ্ত কাজ। তারা ২০২০-এ এসে ছবিটির সব কাজ শেষ করেন। তখন দেশে করোনা মহামারী দেখা দিলে এর মুক্তি আটকে যায়।

মোবাশ্বেরা খানম বলেন, ‘আমি টুটুলের মতো করে বানাতে পারিনি। সেটা সম্ভব নয়। আমরা চেষ্টা করেছি। মুক্তিযুদ্ধের পাকিস্তানের প্রভাব এই দেশে পড়েছে তা দেখানো হয়েছে।’

ছবিটির শ্যুটিং নিয়ে জানতে চাইলে মোবাশ্বেরা বলেন, ‘২০১৮ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে আমরা দুই জায়গায় শ্যুটিং করে এলাম। যদিও এর মাঝে ওর শরীর দুয়েকবার খারাপ হয়েছিল, কিন্তু ও সেটা পাত্তা দিতে চায়নি। কিসের একটা তাড়া যেন ওকে ভেতর থেকে অস্থির করে তুলছিল। ও কি বুঝতে পারছিল ওর সময় বড্ড কম! প্রতিটি শট নেওয়ার সময় আমাকে পাশে বসিয়ে রাখত, ঠিক আছে কি না জানতে চাইত। আমি অনেক সময় ঠাট্টাও করেছি এ নিয়ে, আমি কী বুঝি! ভাগ্যের এমন পরিহাস শ্যুটিং পুরো করার পর আমাকেই ও যেন দায়িত্বটা দিয়ে গেল বাকি ছবিটা শেষ করার! আমি জানি না এখানে জীবনের কোন রহস্য কাজ করেছে।’

‘কালবেলা’র অসমাপ্ত কাজ শেষ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ছবির ইউনিট আর আমার মেয়েরা যেভাবে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল, সেটাই আমাকে শক্তি দিয়েছিল। আমার দুই মেয়ে বাবাকে শেষ বেলায় দেখতে পারেনি, যদিও খবর পেয়েই ছুটে এসেছিল। ওরা অমন শোকের ভেতরেও বলল, আমরা বাবার ছবিটা শেষ করব। ইউনিটের সবাই এগিয়ে এলেন। গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি আমাদের সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদকে, যিনি এই করোনাকালে আমাদের ছেড়ে গেছেন। টুটুলের দীর্ঘদিনের সহকর্মী রতন কুমার বর্মণ অভিভাবকের মতো আমাকে সাহায্য করেছেন। তিনি এ ছবির প্রধান সহকারী।’

২০১৭-১৮ অর্থবছরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে সরকারি অনুদান পায় ‘কালবেলা’। শ্যুটিং শুরু হয় ২০১৮ সালের জুলাইয়ে। পুরো অক্টোবর-নভেম্বর মাস শ্যুটিং হয় খুলনা ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

‘কালবেলা’ ১৯৭১-এ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে একজন নারীর সংগ্রামের কাহিনী নিয়ে নির্মিত। এই চলচ্চিত্রে উঠে আসবে যুদ্ধকালীন সাধারণ মানুষের আশ্রয়ের সন্ধানে অনিশ্চিত যাত্রা, অবরুদ্ধ শহরে কর্মজীবীদের বিপন্নতা, বিহারি ও পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নৃশংসতা এবং যুদ্ধকালীন সামাজিক অস্থিরতা।

ছবিটির প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাহমিনা অথৈ এবং শিশির আহমেদ। অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন মাসুম বাশার, মিলি বাশার, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, লুৎফর রহমান জর্জ, শেখ মাহবুবুর রহমান, সায়কা আহমেদ, জুলফিকার চঞ্চল, কোহিনূর আলম, তানভীর মাসুদ প্রমুখ। চিত্রগ্রহণ করেছেন রিপন রহমান খান।

১সম্পাদনা করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সামির আহমেদ। ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ফরিদ আহমেদ। যিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ বছরের ১৩ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com